দুর্যোগকালীন মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ‘জাগ্রত তরুন’

টুকরো টুকরো গল্পে সাজানো এই পথ চলা, এই এগিয়ে যাওয়া। এই গল্পের স্বপ্নের সারথি হয়েছে কিছু তরুণ যুবক। তাদের অসাধারণ এক উদ্যোগের নামই ‘জাগ্রত তরুণ’। জাদের পথচলার শুরুটা এত সহজ ছিল না, তবে বুকে ছিল সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

যতই আসুক আধার নেমে তাই বলে কি রইবো থেমে! তবুও, থেমে থাকেনি অনাহারির পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা। কঠিন পরিস্থিতে আমরা যে আরও বেশী একতাবদ্ধ ও সামাজিক হয়ে চলতে পারি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো জাগ্রত তরূন নামের সংগঠনটি।

সারা দেশ যখন করোনা দুর্যোগে দিশেহারা, ঈদের আনন্দের উজ্জ্বলতা যখন অনটনের কালো মেঘে ম্লান হওয়ার অপেক্ষায়, তখনই সবার পাশে আমরা সবাই এমন স্লোগানকে বুকে ধরে জাগ্রত তরুণ পুরো চৌদ্দগ্রাম জূড়ে প্রায় ১৩০০ (তের’শ) এর অধিক দুস্থ,গরীব ও নিন্ম আয়ের পরিবারকে তিন ধাপে ত্রাণ ও ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য যে জাগ্রত তরুণের আহবানে দেশের বহুল পরিচিত মানবিক সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ চৌদ্দগ্রামের অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে। জাগ্রত তরুণের তত্ত্বাবধানে বিদ্যানন্দের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী ৫০০’টি অস্বচ্ছল পরিবারকে পৌঁছে দেয়া হয়। এছাড়া, গ্রামীন মানুষের সুষম পুষ্টি নিশ্চায়নেয় পাশাপাশি প্রত্যেকটি পরিবারকে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।

করোনার ভয়াবহতা ও প্রতিকার সমন্ধে গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে সচেতন করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম থানার চিওড়া, বাতিসা ও জগন্নাথ ইউনিয়ন সহ আশেপাশের এলাকায় তিন ধাপে মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও জনবহুল বাজারে, জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানের সামনে সুরক্ষা সূচক ও দুরত্ব চিহ্ন দেয়া হয়েছে। যাতে করে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে।

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি নোবেল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী শাফায়েত অনিক বলেন, জাগ্রত তরুণ শুধু বর্তমান সমস্যা নিয়েই ভাবছে যে তা নয়, আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে মিশে কাজ করলে আমরা অচিরেই এই দুর্যোগ কাটিয়ে একটি সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে পারবো।

সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান সাংগঠনিক সমন্বয়ক নাদিম হায়দার জানিয়েছেন, এই সময়ে প্রান্তিক মানুষের আয় রোজগার বহুলাংশে সীমিত হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়সীমার কথা চিন্তা করে তাদের চাষযোগ্য খালি জায়গাকে কীভাবে উত্তম ভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই দিকনির্দেশনা দিয়ে গ্রামবাসীকে সহায়তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

নিজেদের ফসল নিজেরা ফলাই,পরিবারের খাবার নিজেরা যোগাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতিমধ্যেই মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার কৃষক ও উৎসাহী গৃহস্থদের প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও উৎপাদন মূলক খাতে অর্থ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জাগ্রত তরুণ ২০০৮ সাল থেকে চৌদ্দগ্রামব্যাপী সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

– Daily Mail বাংলা