আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, যদি আল্লাহ খাবার পাঠাতো।

মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, যদি আ’ল্লাহ আকাশ থেকে কোন খাবার পাঠাতো! যু’দ্ধবি’ধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের ১৯ বছরের মে’য়ে সিদরাতুল মুনতাহা এভাবেই

নিজের আকুতি জানিয়েছেন। দেশটির মানুষ অনেক আগে থেকেই তীব্র ক’ষ্টে

জী’বনযাপন করছে। বর্তমান বিশ্ব যে লকডাউন ভোগ করছে এটার স”ঙ্গে তারা পরিচিত অনেক আগ থেকেই। গত দুদিন ধরেসামাজিক মাধ্যমে মুনতাহার একটি মেইলের ব”ঙ্গানুবাদ ঘোরাঘুরি করছে। পাঠকদের জন্য সেটা তুলে ধ’রা হলো।

ই’য়েমেনের রুমাহ শহরের আ’কাদি গ্রাম থেকে ১৯ বছর বয়সী মুনতাহা নামের একটি মেয়ে আমাকে মেইল পাঠিয়েছে। মে’ইলটি এসেছে গত তিন দিন আগে, হ’ঠাৎ আজকে

মে’ইলটা চোখে পড়েছে। মেইলে কি লিখেছে সেটা পরে বলি। আগে সিদরাতুল মুনতাহার পরিচয় দেই। রুমাহ শহরটি ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার

দক্ষিণ-পূর্ব ওমান-সৌদি আরব সী’মান্তে অবস্থিত। আর আ’কাদি গ্রামটি রুমাহ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ী অঞ্চল অবস্থিত।

সেই গ্রামে বাস করে মুনতাহা। এই আ’কাদি গ্রামেই আমা’দের ডিউটি ছিল ই’য়েমেন সফরের সময়। মুনতাহাকে আমি প্রথম দেখি ওই গ্রামে যাওয়ার পর। দ্বিতীয় দিনে

ক্যাম্প এসেছিল ওষুধ নিতে। বিশ্বা’স করবেন কিনা জানিনা মে’য়েটার চেহারা আর চাঁদের মাঝে কোন ত’ফাৎ করতে পারবেন না। আমা’র মনে হয় চাঁদের চেয়েও মুনতাহা

বেশি সুন্দরী। কিন্তু, দীর্ঘদিন খাদ্যের অভাব আর নিজের যত্ন না নেওয়ায় সেই চেহারায় একটা দুঃখের ছাপ পড়ে গেছে। প্রথম দেখে আমা’র খুব মায়া লেগেছিল।

কাছে টেনে নিয়ে কথা বললাম। সব জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু ইংরেজি অল্প বােঝে কিন্তু। একটুও বলতে পারে না। আমা’দের গাইড এর সা’হায্য নিয়ে ওর কথাগু’লো শুনলাম। ও আরবিতে বলছিল আর গাইড আমাকে ইংলিশে ট্রান্সলেট করে বলছিল। ওর ডাক্তার

হওয়ার ইচ্ছে ছিল ভালো পড়াশোনা করছিল হ’ঠাৎ দেশে যু’’দ্ধ নেমে এলো। পরিস্থিতি এখন পুরোটাই উ’ল্টো। ডাক্তারের কথা ভুলে গিয়ে দু’মুঠো খাবারের জন্য এখন সং’গ্রাম

করতে হয়। মা বাবার একমাত্র মেয়ে। ৯দিন ছিলাম ৯দিনই আমা’দের ক্যাম্পে আমা’দের সাথে রেখে দিয়েছিলাম। আসার সময় সে কি কা’ন্না! এবার আসি মেইলে কি লিখেছে।

ভালোবাসার হিমা’দ্রি আপু, অনেকগু’লাে ক্ষু’ধার্ত মানুষের ভালোবাসা নিবেন। গত ১৮ ঘণ্টায় এখানে খাবার পানি আসেনি। আমি গত ১দিন আগে শেষ রুটি খেয়েছি। আজ সকালে দু’টো খেজুর, দুপুরে এখন পর্যন্ত কিছু খাইনি। অনেক ক’ষ্ট করে এখানে হেঁটে

এসে একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের অনেক হাত পা ধরে আপনাকে এই মেইল পাঠাচ্ছি। বাবা-মা দাঁড়াতে পারে না। গত এক স’প্ত াহ ধরে চার পায়ের জন্তুর মত

মাটিতে হাটে, এত ক্ষু’ধা তাদের। গত কয়েক স’প্ত াহ ট’ক গাছের পাতা সি’’দ্ধ করে ভর্তা করে খেয়েছিলাম। এখন সে পাহাড়ের গাছগু’লোর পাতা ও শেষ হয়ে গেছে।

সামনে রমা’দান আসছে! জানিনা কিভাবে সাহরি করব কি দিয়ে ইফতার করব৷ আপনারা যারা এসেছিলেন যদি দ’য়া করে রমা’দানের আগে আরেকবার আসেন! অন্তত একটু

খাবার পানি নিয়ে আসেন! অথবা, ৫ কেজি আট’া দেন যাতে আমি, আমা’র মা আর বাবা রমা’দানের রোজাগু’লো রাখতে পারি। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি,

যদি আ’ল্লাহ আকাশ থেকে কোন খাবার পাঠাতো! আমা’দের দুঃখ গু’লাে শুধু আমা’দের আশপাশের পাহাড় ছাড়া কেউ দেখেনা। আপনার সাথের সকল স”ঙ্গীদের সালাম দেবেন। আপনাদের ফেরার অ’পেক্ষায়।