হাজার হাজার ইরানি নাগরিক বসবাস করতে চায় ‘ইহুদি’রাষ্ট্র ইসরাইলে।

মধ্যপ্রাচ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ইরান ও ইসরায়েল। প্রতিনিয়তই দেশ দু’টির মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। বিশেষ করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি নিয়মিতই দিয়ে থাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশ দুটির জনগণও পরস্পরকে শত্রু হিসাবেই মনে করে। তবে এবার জানা যাচ্ছে ভিন্ন কথা, হাজার হাজার ইরানি ইসরায়েলে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন বলে জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে।

বুধবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলের কাছে সাহায্য চেয়ে আসা ইরানিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। হাজার হাজার ইরানি আশ্রয় কিংবা চিকিৎসার জন্য ইসরায়েল ভ্রমণের আবেদন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ডিপ্লোম্যাসির প্রধান ইফতাহ কুরিয়েল বলেন, ‘অনুরোধগুলো বেশিরভাগই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্সিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্যক্তিগত ইমেইলের এসেছে। কিছু ব্যক্তি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছে, কিন্তু ছদ্মনাম ব্যবহার করে।

অনেকগুলো বার্তা গুরুতর আশ্রয়ের অনুরোধ উল্লেখ করে কুরিয়েল বলেন, ‘আবেদনকারীদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসাবে বসবাস করছেন। ইরানের নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়া এসব ব্যক্তিরা ইসরায়েলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।

আশ্রয় প্রার্থনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। যিনি বলেছিলেন যে, ‘দুর্নীতিবাজ সরকারের কারণে তাকে ইরান থেকে পালাতে হয়েছিল। আমি তুরস্কে আশ্রয় চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে আশ্রয় দেয়নি। স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ে নিয়ে অবিশ্বাস্য পরিস্থিতিতে রয়েছি, আমাকে সাহায্য করতে পারে এমন কেউ নেই। আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

আশ্রয় চাওয়া আরেকজন হলেন ইরানি সেনাবাহিনীর একজন ইহুদি সৈনিক। তিনি লিখেছেন, আমার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অপরাধের কারণে আমাকে ইরান ছেড়ে পালাতে হবে। দয়া করে আমি কিভাবে ইসরায়েলে আশ্রয় পাব সেই উত্তর দিন। আমার জীবন বিপদের মুখে পড়েছে এবং আমি ইরানে থাকতে পারি না।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্সি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করা শ্যারোনা অ্যাভিগিনজ চ্যানেল ২০-কে বলেছিলেন যে, আশ্রয় প্রার্থনা করা ইরানিরা ইসরায়েলকে একটি আধুনিক, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে দেখছে এবং এটি তাদের পাঠানো বার্তায় বেশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৮৮ সালে অ্যাভিগিনজ ইরান থেকে ইসরায়েলে চলে এসেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে ইরানিরা ইসায়েলকে তখনকার চেয়ে অনেক আলাদাভাবে দেখে। তখন তারা কেবল ইসরায়েল সম্পর্কে সরকারি প্রচার চ্যানেল থেকে শুনতে পেত। সরকার যা শুনাতো সেটাই শুনতে হতো। কিন্তু আজ, ইন্টারনেট এবং আমাদের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেখান থেকে ইরানিরা অনেক কিছু জানতে পারছে এবং তারা আরো সচেতন। এই বার্তাগুলো প্রমাণ করে যে ইরানিরা ইসরায়েলের বিরোধী প্রচারকে মিথ্যা বলে দেখছে।

সূত্র- জেরুজালেম পোস্ট।
– Daily Mail বাংলা